আগুনে পাকানো কোনো বস্তু খাওয়ার দ্বারা অযু ভঙ্গ হবে কি না?- এ ব্যাপারে ইসলামের প্রথমিক যুগে সাহাবায়ে কেরামগণের মধ্যে কিছুটা মতানৈক্য ছিল। যেমনঃ-


  • হযরত আবু হুরায়রা, আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর এবং যায়েদ ইবনে ছাবিত (রা) প্রমুখের মতে, আগুনে পাকানো বস্ত খাওয়ার দ্বারা অযু ভঙ্গ হয়ে যায়।
  • অপরদিকে অন্যান্য সাহাবায়ে কেরাম যেমন খোলাফায়ে রাশেদীন, ইবনে আব্বাস, ইবনে মাসউদ (রা) বলেন যে, অযু ভঙ্গ হবে না।
   ★উল্লেখ্য যে, উভয় পক্ষেরই বহু দলীল রয়েছে।  তবে, পরবর্তীতে সমস্ত সাহাবায়ে কেরাম ও তাবেয়ীগণ ঐক্যমত পোষণ করেছেন যে, অযু ভঙ্গ না হওয়ার ব্যাপারে। তাই, এ ব্যাপারে চার ইমামের মাঝেও কোনো মতভেদ নেই।  বরং সকলেই একমত যে, আগুনে পাকানো বস্তু খাওয়ার দ্বারা অযু ভঙ্গ হবে না। 

   ★★যে সমস্ত হাদীসে অযু করার বা ভঙ্গ হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, সেগুলোর জবাব উলামায়ে কেরামগণ বিভিন্নভাবে দিয়েছেন। যেমনঃ

  1. মাসাবীহ গ্রন্থগার বলেন, যেসকল হাদীসে অযু করার কথা বলা হয়েছে, সেগুলো ইবনে আব্বাস (রা) এর হাদিস দ্বারা মানসুখ হয়ে গেছে। হাদিসটি এই-   ان رسول الله, اكل كتف شاة ثم صلي ولم يتوضٱ ---- কিন্তু এই হাদিস পুরোপুরি নসখ বা মানসুখ এর উপর ইঙ্গিত করে না। তাই, উত্তম হল, জাবের (রা) এর হাদিসকে নাসিখ নির্ধারণ করা। হাদিসটি হচ্ছে, كان اخر الامرين من رسول الله, ترك الوضوء مما مست النار----
  2. হযরত শাহ ওয়ালীউল্লাহ (র) বলেন, যেসব হাদিসে অযুর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, তা শুধু বিষেশ বিষেশ মানুষের জন্য, জন-সাধারণের জন্য নয়। 
  3. অথবা, কেউ বলেন, যে সব হাদিসে অযুর কথা বলা হয়েছে, সেগুলো দ্বারা শরয়ী অযু উদ্দেশ্য নয় বরং শাব্দিক অযু তথা হাত-মুখ ধোয়া উদ্দেশ্য। ইত্যাদি।

   ★তথ্যসূত্রঃ আল-মাফাতীহ, মিশকাতুল মাসাবীহ। পৃঃ১০৮.

Post a Comment

Previous Post Next Post