আমরা সবাই মরণশীল ।সবাইকে একদিন না একদিন মৃত্যুর স্বাধ গ্রহণ করতে হবে। তাই, এ জীবনের মোহে পড়ে অযথা সময় নষ্ট মোটেই কাম্য নয় বরং আমাদের সর্বদা পরকালের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে এবং পরকালের জন্য নেক আমল করতে হবে। যদি কেহ মৃত্যুর সময় কালেমা পাঠ করে, তাহলে তারমত সৌভাগ্য আর কার হতে পারে? আল্লাহ তায়ালা আমাদের সবাইকে যেন মৃত্যুর সময় কালেমা পাঠ করার তৌফিক দান করুন। আমীন।

এখন আমরা জানবো, কেহ মৃত্যু মুখে পতিত হলে আমাদের করনীয় কী কী? নিম্নে তা আলোচনা করা হলোঃ-


  1. কাহারো মৃত্যু নিকটবর্তী হলে, তাহার পা ক্বিবলার দিকে দিয়ে চিৎ করে শুয়াবে এবং মাথা উচু করে দিবে যেন মুখ ক্বিবলার দিকে হয়ে যায়। তারপর তাহার কাছে বসে জোরে জোরে ক্কালেমা পড়িবে। মৃত্যুর সময় রোগীর বড় কষ্ট হয়, সুতরাং তাহাকে পড়িবার জন্য জবরদস্তি করা যাবে না। কারন হয়ত তাহার মুখ দিয়ে খারাপ কথা বের হতে পারে। পার্শ্ববর্তী লোকের পড়া শুনিলে আশা করা যায়, সেও পড়বে।
  2. সে যদি একবার কালেমা পাঠ করে নেয়, তাহলে সবাই চুপ থাকবে। এ চেষ্টা করা যাবে না যে, বারবার সে যেন কালেমা পড়তে থাকে আর এ অবস্থায় মৃত্যু বরন করে। কেননা, একবার পড়ার উদ্যেশ্য হলো, সর্বশেষ বাক্য যেন কালেমা হয় আর কালেমা পড়িতে পড়িতে মৃত্যু বরণ করা জরুরী নয়। তবে হ্যা, সে যদি দুনিয়াবি কোনো কথা বলে ফেলে, তাহলে পুনরায় কালেমা পড়িতে থকবে এবং একবার বললেই চুপ থাকবে।
  3. যখন শ্বাস বন্ধ হয়ে আসে, আটকিয়ে আটকিয়ে চলতে থাকে, পা শিথিল হয়ে যায়, নাক বাকা হয়ে যায়, তখন জানিবে যে, মৃত্যু নিকটবর্তী হয়েছে, তখন জোরে জোরে লালেমা পড়িবে।
  4. এইরুপ অবস্থায় নিকটে বসে কেহ ইয়া-সীন পাঠ করলে মৃত্যুর কষ্ট কম হয়। 
  5. এ সময় কোনো কথা বলা উচিত নয় । কেননা তার অন্তর দুনিয়ার দিকে আকৃষ্ট হতা পারে । এই সময় এমন কথা বল, যারদ্বারা দুনিয়া হতে মায়া উঠে যায় এবং আল্লাহর দিকে মন ঝুকে পড়ে। আর ইহাতেই কল্যাণ নিহিত। এ সময় সন্তানদেরকে কাছে আনা অথবা মহব্বতের কোনো কাছে না বা এর কথা বলা উচিত নয়। কেননা, হতে পারে এইই মহব্বত নিয়ে সে দুনিয়া হতে বিদায় হলো। অর্থাঠ (না-য়ু-বিল্লাহ) তার অপমৃত্যু হলো। 
  6. এ সময় তার মুখ হতে কোনো খারাপ কথা বের হলে, সেদিকে ভ্রুক্ষেপ করবে না এবং তা আলোচনাও করবে না বরং মনে করবে যে, হয়ত সে বেহুশ অবস্থায় বলেছে। কেননা বেহুশ অবস্থায় যাকিছু ঘটে সবই মাফ। আর আল্লাহর দরবারে তাহার মাগফিরাতের জন্য দোয়া করতে থাকবে।
  7. যহন দম বা আত্মা বাহির হয়ে যায়, তখন তাহার হাত-পা সোজা করে দিবে, চক্ষু বন্ধ করে দিবে, মুখ মাথার সঙ্গে কাপড় দিয়ে বাধিয়ে রাখবে, যাতে মুখ হ করে না থাকে। এভাবে দু-পার বৃদ্ধাঙ্গুলি কোনো কিছু দ্বারা বাধিয়া দিবে। আর যথাসম্ভব সর্বশ্রীর কাপড় দ্বারা ঢাকিয়া দিবে এবং শীঘ গোসল ও কাফন-দাফনের ব্যবস্থা করবে।
  8. মুখ, চুখ বন্ধ করিবার সময় পড়িবে- বিসমিল্লাহি ওয়ালা মিল্লাতি রাসূলিল্লাহ
  9. প্রাণ বাহির হয়ে গেলে তাহার নিকট লোবান বা আগরবাতী জ্বালিয়ে দিবে । আর হায়েয-নেফাস ওয়ালী বা যাহার উপর গোসল ফরয হয়েছে, সে নিকটে থাকবে না।
  10. গোসল দেওয়ার পূর্বে মৃতের নিকট কোরআন শরীফ পড়া জায়েয নয়।


         তথ্যসূত্রঃ- বেহেশতি জেওর, ১ম খন্ড।

Post a Comment

Previous Post Next Post