উত্তরঃ- জানাযার নামায-ই মূলত দো'য়া। তাই জানাযা নামাযের পর দোয়া বা মুনাজাত করা জায়েয না। তবে মৃতকে মাটিতে দাফন করার পর, তার কবরের পাশে কিবলামুখী হয়ে হাত তুলে দোয়া করা জায়েজ আছে। কেননা হাদিসে এসেছে,

عَنْ عُثْمَانَ بْنِ عَفَّانَ، قَالَ: كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، إِذَا فَرَغَ مِنْ دَفْنِ الْمَيِّتِ وَقَفَ عَلَيْهِ، فَقَالَ: «اسْتَغْفِرُوا لِأَخِيكُمْ، وَسَلُوا لَهُ بِالتَّثْبِيتِ، فَإِنَّهُ الْآنَ يُسْأَلُ

হযরত উসমান বিন আফফান রাযি‏.‏ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন মৃতের দাফন থেকে ফারিগ হতেন, তখন তিনি সেখানে দাঁড়াতেন এবং বলতেন, তোমরা তোমাদের ভাইয়ের জন্য দোয়া কর, এবং তার জন্য দৃঢ়তার দোয়া কর। কেননা, এখনি তাকে সুওয়াল করা হবে। (সুনানে আবু দাউদ, হাদীস নং-৩২২১)

★এ বিষয়ে সৌদী আরবের সর্বোচ্চ ফতওয়া বোর্ড, ফাতাওয়া লাজনাহ আদ-দায়েমাকে জিজ্ঞেস করা হলে, উত্তরে বলা হয়-

الدعاء عبادة من العبادات، والعبادات مبنية على التوقيف، فلا يجوز لأحد أن يتعبد بما لم يشرعه الله. ولم يثبت عن النبي صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم أنه دعا بصحابته على جنازة ما بعد الفراغ من الصلاة عليها، والثابت عنه صلى الله عليه وسلم أنه كان يقف على القبر بعد أن يسوى على صاحبه ويقول: استغفروا لأخيكم واسألوا له التثبيت، فإنه الآن يسأل- وبما تقدم يتبين أن الصواب: القول بعدم جواز الدعاء بصفة جماعية بعد الفراغ من الصلاة على الميت، وأن ذلك بدعة-

অর্থঃ- দো'য়া অন্যতম ইবাদত। আর ইবাদত দলীলের উপর নির্ভরশীল। অতএব কারো জন্য শরী‘আত বহির্ভূত পন্থায় ইবাদত করা জায়েয হবে না। আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে সাব্যস্ত হয় নি যে, তিনি জানাযার নামাজের পরে সাহাবীদের নিয়ে দোয়া করেছেন। তাঁর থেকে যা সাব্যস্ত হয়েছে তা হল- তাঁর সাহাবীদের কবর সমান করা হলে তিনি কবরের পাশে দাঁড়িয়ে বলতেন, ‘তোমাদের ভাইয়ের জন্য আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা কর এবং ঈমানের উপর দৃঢ় রাখার জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া কর। কারণ এখনই তাকে প্রশ্ন করা হবে’। পূর্বের আলোচনা থেকে স্পষ্ট হয়ে গেল যে, মাইয়েতের জন্য নামাজ আদায় করার পর দলবদ্ধভাবে মুনাজাত করা জায়েয না হওয়াই সঠিক। কারণ তা বিদ‘আত’।

তথ্যসূত্রঃ- (ফাতাওয়া লাজনাহ দায়েমাহ ৯/১৬, ফতওয়া নং ২২৫১)



Post a Comment

Previous Post Next Post