সালাতুল তাসবিহ নামায এর পরিচয়, সালাতুত তাসবিহ নামাযের ফযিলত এবং এই নামায যেভাবে পড়তে হয়, নিম্নে  বিস্তারিত আলোচনা করা হলো | The Introduction of Salatut tasbih, it's Fazilat and it's rules of performing, are given below in detail.

সালাতুত তাসবিহ নামাযের পরিচয়ঃ


যে নামাযে বারবার তাসবিহ পাঠ করা হয়, তাকেই সাধারণত সালাতুল তাসবিহ নামায বলে।

তাসবিহটি হচ্ছে        سُبْحاَنَ الله وَالْحَمدُ للهِ وَلآَ اِلَهَ اِلاَّاللهُ وَاللهُ اَكْبرُ  

 উচ্চারণঃ সুব-হা-নাল্লাহি ওয়াল হামদু লিল্লাহি, ওয়ালা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার।

সালাতুত তাসবিহ নামাযের ফযিলতঃ

সালাতুল তাসবিহ নামায এর ফযিলত সম্বন্ধ্যে হাদিস নিম্নে দেওয়া হলোঃ 


 عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ لِلْعَبَّاسِ بْنِ عَبْدِ الْمُطَّلِبِ: يَا عَبَّاسُ، يَا عَمَّاهُ، ” أَلَا أُعْطِيكَ، أَلَا أَمْنَحُكَ، أَلَا أَحْبُوكَ، أَلَا أَفْعَلُ لَكَ عَشْرَ خِصَالٍ إِذَا أَنْتَ فَعَلْتَ ذَلِكَ، غَفَرَ اللَّهُ لَكَ ذَنْبَكَ أَوَّلَهُ وَآخِرَهُ، وَقَدِيمَهُ وَحَدِيثَهُ، وَخَطَأَهُ وَعَمْدَهُ، وَصَغِيرَهُ وَكَبِيرَهُ، وَسِرَّهُ وَعَلَانِيَتَهُ، عَشْرُ خِصَالٍ: أَنْ تُصَلِّيَ أَرْبَعَ رَكَعَاتٍ، تَقْرَأُ فِي كُلِّ رَكْعَةٍ بِفَاتِحَةِ الْكِتَابِ وَسُورَةٍ، فَإِذَا فَرَغْتَ مِنَ الْقِرَاءَةِ فِي أَوَّلِ رَكْعَةٍ، قُلْتَ وَأَنْتَ قَائِمٌ: سُبْحَانَ اللَّهِ وَالْحَمْدُ لِلَّهِ وَلَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَاللَّهُ أَكْبَرُ خَمْسَ عَشْرَةَ مَرَّةً، ثُمَّ تَرْكَعُ فَتَقُولُ وَأَنْتَ رَاكِعٌ عَشْرًا، ثُمَّ تَرْفَعُ رَأْسَكَ مِنَ الرُّكُوعِ فَتَقُولُهَا عَشْرًا، ثُمَّ تَهْوِي سَاجِدًا فَتَقُولُهَا وَأَنْتَ سَاجِدٌ عَشْرًا، ثُمَّ تَرْفَعُ رَأْسَكَ مِنَ السُّجُودِ فَتَقُولُهَا عَشْرًا، ثُمَّ تَسْجُدُ فَتَقُولُهَا عَشْرًا، ثُمَّ تَرْفَعُ رَأْسَكَ مِنَ السُّجُودِ فَتَقُولُهَا عَشْرًا، فَذَلِكَ خَمْسَةٌ وَسَبْعُونَ فِي كُلِّ رَكْعَةٍ، تَفْعَلُ فِي أَرْبَعِ رَكَعَاتٍ، إِنِ اسْتَطَعْتَ أَنْ تُصَلِّيَهَا فِي كُلِّ يَوْمٍ مَرَّةً فَافْعَلْ، فَإِنْ لَمْ تَسْتَطِعْ فَفِي كُلِّ جُمُعَةٍ مَرَّةً، فَإِنْ لَمْ تَفْعَلْ فَفِي كُلِّ شَهْرٍ مَرَّةً، فَإِنْ لَمْ تَفْعَلْ فَفِي عُمُرِكَ مَرَّةً“
অর্থাৎ ইবনে আব্বাস রাযি. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন,রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আব্বাস ইবনে আব্দিল মুত্তালিবকে বলেছেন, হে চাচা! আমি কি আপনাকে দেব না? আমি কি আপনাকে প্রদান করব না? আমি কি আপনার নিকটে আসব না? আমি কি আপনার জন্য দশটি সৎ গুনের বর্ণনা করব না, যা করলে আল্লাহ তাআলা আপনার আগের ও পিছনের, নতুন ও পুরাতন, ইচ্ছায় ও ভুলবশত কৃত, ছোট ও বড়, গোপন ও প্রকাশ্য সকল গুনাহ মাফ করে দেবেন?
আর সে দশটি সৎ গুন হলো: আপনি চার রাকাত নামায পড়বেন। প্রতি রাকাআতে সূরা ফাতিহা ও অন্য একটি সূরা পড়বেন। প্রথম রাকাতে যখন কিরাআত পড়া শেষ করবেন তখন দাঁড়ানো অবস্থায় ১৫ বার বলবেন:  سُبْحَانَ اللَّهِ وَالْحَمْدُ لِلَّهِ وَلَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَاللَّهُ أَكْبَرُ  
এরপর রুকুতে যাবেন এবঃ রুকু অবস্থায় (উক্ত দুআটি) ১০ বার পড়বেন। এরপর রুকু থেকে মাথা ওঠাবেন এবং ১০ বার পড়বেন। এরপর সিজদায় যাবেন। সিজদারত অবস্থায় ১০ বার পড়বেন। এরপর সিজদা থেকে মাথা উঠাবেন অতঃপর ১০ বার পড়বেন। এরপর আবার সিজদায় যাবেন এবং সিজদারত ১০ বার পড়বেন। এরপর সিজদা থেকে মাথা ওঠাবেন এবং ১০ বার পড়বেন। এ হলো প্রতি রাকাতে ৭৫ বার।
আপনি চার রাকাতেই অনুরূপ করবেন। যদি আপনি প্রতিদিন আমল করতে পারেন, তবে তা করুন। আর যদি না পারেন,তবে প্রতি জুমাআয় একবার। যদি প্রতি জুমআয় না করেন তবে প্রদি মাসে একবার। আর যদি তাও না করেন তবে জীবনে একবার।
{সুনানে আবু দাউদ,হাদীস নং- ১২৯৭,  সুনানে ইবনে মাজাহ,হাদীস নং- ১৩৮৭, সহীহ ইবনে খুজাইমা,হাদীস নং- ১২১৬, সুনানে বায়হাকী কুবরা,হাদীস নং- ৪৬৯৫,  তিরমিযি- ১/১০৬,হাদিস নং- ১২৯৯}       [হাদীসটি সহীহ।]


সালাতুত তাসবিহ নামাযের নিয়মঃ





সালাতুল তাসবিহ এর দুই নিয়ম রয়েছে এবং এই নামায হচ্ছে চার রাকাত। প্রতি রাকাতে সূরা ফাতিহার পর, যে কোন সূরা পড়তে পারেন। তবে এই নামাযে বিশেষত্ব এই যে,  প্রতি রাকাতে ৭৫ বার করে, চার রাকাতে মোট (৭৫*৪=৩০০) বার তাসবীহ পড়তে হবে । চলুন জেনে নেই এর নিয়ম।

প্রথম নিয়ম:


  1.  ১ম রাকাত এ সূরা ফাতিহা ও ক্বিরাত তথা অন্য সূরা বা আয়াত পরার পর, (উপরে বর্নিত) তাসবীহ টি ১৫ বার পড়তে হবে।
  2.  এরপর রুকুতে গিয়ে রুকুর তাসবীহ পরার পরে তাসবীহ টি ১০ বার পড়তে হবে।
  3.  এরপর রুকু হতে দাড়িয়ে গিয়ে “রাব্বানা লাকাল হামদ” পড়ার পর, তাসবীহ টি ১০ বার পড়তে হবে ।
  4.  এরপর সিজদায় গিয়ে সিজদার তাসবীহ পরে, তাসবীহ টি ১০ বার পড়তে হবে ।
  5.  প্রথম সিজদা থেকে বসে অর্থাৎ জলসায় তাসবীহ টি ১০ বার পড়তে হবে ।
  6. এরপর আবার সিজদায় গিয়ে সিজদার তাসবীহ পরে, তাসবীহ টি ১০ বার পড়তে হবে ।
  7. তারপর সিজদা থেকে উঠে বসে, আরো ১০ বার পড়তে হবে।
  8. তারপর একই ভাবে ২য় রাকাত পড়তে হবে।
  9. তবে ২য় রাকাত এ ১ম বৈঠকে “আত্তহিয়্যাতু…” পড়ার আগে ১০ বার পড়তে হবে। তারপর, “আত্তহিয়্যাতু…” পড়ে তৃতীয় রাকাত এর জন্য দাড়াবেন।
  10.  এভাবে ১ম রাকাতের মত ৩য় রাকাত এবং ২য় রাকাত এর মত ৪র্থ রাকাত পড়বেন।
    {১ম নিয়মটি উত্তম}


দ্বিতীয় নিয়ম:



  1. নামায শুরু করে শুরুর দোয়া বা সানা পাঠের পরে, ১৫ বার তাসবিহটি পড়তে হবে।
  2. সূরা ফাতেহা ও অন্য কোনো সূরা শেষ করার পরে, ১০ বার তাসবিহটি পড়তে হবে।
  3. তারপর রুকুতে ১০ বার তাসবিহ টি পড়তে হবে।
  4. রুকু থেকে উঠে ১০ বার তাসবিহটি পড়তে হবে।
  5. তারপর প্রথম সিজদায় ১০ বার তাসবিহটি পড়তে হবে।
  6. তারপর দুই সিজদার মাঝে ১০ বার পড়তে হবে।
  7. এরপর দ্বিতীয় সিজদায় ১০ বার তাসবিহ টি পড়তে হবে।
  8. এভাবে ২য়, ৩য় অ ৪র্থ রাকাত পড়তে হবে।
   {সূত্রঃ আহকামে জিন্দেগী}

বিবিধ: কোনো এক স্থানে উক্ত তাসবীহ পড়তে সম্পূর্ণ ভুলে গেলে বা ভুলে নির্দিষ্ট সংখ্যার চেয়ে কম পড়লে, পরবর্তী যে রুকমেই স্মরণ হোক, সেখানেই তথাকার সংখ্যার সাথে এই ভুলে যাওয়া সংখ্যাগুলোও আদায় করতে হবে।

আর, এই নামাযে কোনো কারনে সিজদাহে সাহু ওয়াজিব হলে সেই সিজদা এবং তার মধ্যকার বৈঠকে উক্ত তাসবীহ পাঠ করতে হবে না।

তাসবীহের সংখ্যা গণনার জন্য আঙ্গুলের কর গণনা করা যাবে না। তবে আঙ্গুল চেপে স্মরণ রাখা যেতে পারে।

আর কেহ যদি উপরোক্ত তাসবীহ বা কালেমার পরে "ওলা হাওলা ওলক কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহিল আলিউল আজিম" যোগ করে, তবে তা উত্তম হবে।


(সুত্র: এহইয়াউ উলুমুদ্দীন)



salatut tasbih



Post a Comment

Previous Post Next Post