★★নামাযে পরিপূর্ণ মনোযোগী হওয়া গুরুত্বপূর্ণ। যেহেতু আমরা মানুষ, সেহেতু আমাদের ভুল হয়ে যায়। কিন্তু আল্লাহ তায়ালা বান্দার আমল নষ্ট হতে দেন না। তাই নামাযে একান্তই কোন ফরয রুকন ছেড়ে না দিলে, ওয়াজিব ছেড়ে দিলেও সিজদায়ে সাহুর মাধ্যমে নামাযকে শুদ্ধ করে নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। যেসব কারনে সিজদায়ে সাহু করতে হবে, তা নিম্নে আলোচনা করা হলো | It is important to give fully attention in the Prayers. As we're humans, we are wrong. But Allah does not give the amal of the  servent to be destroyed. Therefore, if the person does not leave any obligatory(faraz) rukan in the Prayers, but he leave any Wajib, he will have the opportunity to purify the Prayers through sijda ye Sahu. The reasons for which sahu sajdah to do, are discussed below.

♠♠সাহু সিজদা কেন দিবেন? | Why will you give Sahu Sijda?

নামাযে কোন ওয়াজিব ছুটে গেলে সিজদায়ে সাহু আদায় করতে হবে। অন্যথায় নামায হবে না। ভুলক্রমে বা ইচ্ছাকৃতভাবে সিজদায়ে সাহু আদায় না করলে নামায পুনরায় পড়তে হবে | If you give up any Wajib in the prayers, then you have to perform Sahu Sijda. Otherwise prayers will not be purified. If anyone does not perform Sahu Sijda erroneously or inadequately, then heve to perform the prayers again.

♠♠সাহু সিজদার নিয়ম | The Rule of Sahu Sijda:

সিজদায়ে সাহু বা সাহু সিজদা দেয়ার নিয়ম হলো- শেষ রাকাতে আত্তাহিয়্যাতু পড়ে শুধু ডান দিকে সালাম ফিরিয়ে ২টি সিজদা দিতে হবে। দুই সিজদার মাঝখানে অবশ্যই ১ তাসবিহ পরিমাণ সোজা হয়ে বসতে হবে। তারপর যথারীতি আবার আত্তাহিয়্যাতু, দুরুদ শরীফ ও দুআয়ে মাসূরা পড়ে নামায শেষ করতে হবে | The rule of giving sahu sijda is that, reading tashahud in the last rakat, returning salam to the right, to give 2 sijda. In the middle of two sijdah, there must be sit of amount of a Tasbih. Then, as usual, reading At-tashahud, Durood Sharif and Prayer should be finished.

তবে নামাযে যদি কোনো ফরয ছুটে যায় তাহলে সিজদায়ে সাহু কার্যকর হবে না। নামায পুনরায় আদায় করতে হবে। আবার অনেককে দেখা যায় কোনো কারণ ছাড়াই সব নামাযের শেষে একটা সাহু সিজদা দিয়ে দেয়। এমনটি করাও সঠিক নয়।

★★যেসব কারণে সাহু সিজদাহ বা সিজদায়ে সাহু করতে হয় | The reasons for which sahu sijda to do:


   ♠♠ মূলত তিনটি কারণে নামাযে সাহু সিজদা দিতে হয় | Actually for three reasons sahu sijdah is to give/do:

১) হ্রাস হওয়া। যেমনঃ কোন রুকন বা ওয়াজিব কম হওয়া |  To become decrease. such as: to become decrease any rukan or wajib.

২) নামায বৃদ্ধি হওয়া। যেমনঃ কোন রুকূ বা সিজদা বা বসা ইত্যাদি বৃদ্ধি হওয়া | To become multiply prayers. such as: to multiply/grow up any ruku, sijdah or sitting etc. .

৩) সন্দেহ হওয়া। যেমনঃ কত রাকাত পড়েছে তিন না চার এব্যাপারে সংশয় হওয়া |  To become doubt. such as: To become doubt in this matter that how many rakats did you perform either 3 or 4 rakats.

 (তথ্যসূত্রঃ ফাতওয়ায়ে আরকানুল ইসলাম / reference: Fatwa-ye Arkanul Islam)

  ♠♠ নিম্নে এসব কারনের বিস্তারিত আলোচনা দেওয়া হলো | Details discussion of these reasons is given in the following :  


 হ্রাস হওয়ার ক্ষেত্রে / In case of decreasing ঃ
  1. ফরয নামাযের প্রথম দুই রাকাতে সূরা ফাতেহা পড়া ওয়াজিব। যদি আপনি ফরয নামাযের ১ম রাকাত বা ২য় রাকাত বা উভয় রাকাতেই সূরা ফাতেহা ভুল করে না পড়েন, তাহলে আপনাকে সিজদায়ে সাহু আদায় করতে হবে | In the First two rakats of faraz salat, to recite Fateha is wajib. If you don't read sura fateha erroneously in the first rakat or second rakat or both rakats of faraz salat, then you have to perform sahu sajdah. আবার ফরয নামাযের ৩য়/৪র্থ রাকাতে সূরা ফাতেহা পড়া সুন্নাত। তাই, আপনি যদি কোনো ফরয নামাযের ৩য়/৪র্থ রাকাতে সূরা ফাতেহা ভুল করে না পড়েন, তবে সিজদায়ে সাহু দিতে হবে না | Again In the 3rd rakat or 4th rakat of faraz prayers, to read fateha is sunnat. If you don't read sura fateha erroneously in the 3rd rakat or 4th rakat or both rakats of faraz salat, then you don't have to perform sahu sajdah.
  2.  ফরয নামাযের প্রথম দুই রাকাতে সূরা ফাতেহা পড়ার পর অন্য একটি সূরা মিলানো ওয়াজিব। যদি আপনি ভুল করে ফরয নামাযের প্রথম ২ রাকাতে সূরা ফাতেহা পড়ার পর, অন্য কোনো সূরা না পড়েন, তাহলে আপনাকে সিজদায়ে সাহু করতে হবে | In the First two rakats of faraz salat, after reciting Fateha, to read kirat/another sura/ayats is wajib. If you don't read any sura/ayat/kirat after reciting fateha in the first rakat or second rakat or both rakats of faraz salat, then you have to perform sahu sajdah. আবার ফরয নামাযের ৩য়/৪র্থ রাকাতে সূরা ফাতেহা পড়ার পর অন্য কোনো সূরা পড়ার বিধান নেই। তবে আপনি ভুলে ফরয নামাযের ৩য়/৪র্থ রাকাতে সূরা ফাতেহা পড়ার পর অন্য কোনো সূরা পড়ে ফেললে সিজদায়ে সাহু করতে হবে না |Again In the 3rd rakat or 4th rakat of faraz prayers, there is no  any provision to read another sura/ayat . But If you read another sura/ayats erroneously in the 3rd rakat or 4th rakat or both rakats of faraz salat, then you don't have to perform sahu sajdah.
  3. সুন্নাত ও নফল নামাযের প্রত্যেক রাকাতে সূরা ফাতেহা পড়া এবং সেটার পর অন্য একটি সূরা মিলানো ওয়াজিব। আপনি যদি যে কোনো সুন্নাত/নফল নামাযের যে কোনো রাকাতে সূরা ফাতেহা বা সূরা ফাতেহার পর অন্য একটি সূরা না পড়েন, তাহলে আপনাকে অবশ্যই সিজদায়ে সাহু করতে হবে | In every rakats of the sunnat and nafal prayers, to read Fateha or after reading Fateha, to read another sura is Wajib. So if you din't read Fateha or another sura after fateha in any rakats of the sunnat or nafal prayers, then you must  be sahu sijda. 
  4. ক্বিয়াম, জলসা না করলে । কারন সেগুলো ওয়াজিব | If did't do Kiyam, ,Jalsa.  This is why that is wajib.
  5. ঈদের নামাযে ৬ তাকবির না দিলে। কারন ৬ তাকবির দেওয়া ওয়াজিব | If did't give 6 Takbir in the Eid prayers. The reason is that is wajib.
  6. প্রথম বৈঠক না করলে | If did'n do first sitting (tashahud)
  7. বিতর নামাযে দোয়ায়ে কুনুত না পড়লে | If did't read Dua-ye-kunut in the Witar prayers.
  8. আস্তের জায়গায় আস্তে পড়া এবং জোরের জায়গায় জোরে না পড়লে | If didn't read slowly in the time of slow and read loudly in the time of loud.
  নামায বৃদ্ধি হওয়ার ক্ষেত্রে | In the case of decreasing the prayers:
  1.  ভুল করে যে কোনো রাকাতে ২ রুকু বা ৩ সিজদা দিলে সিজদায়ে সাহু করতে হবে। 
  2. সূরা ফাতেহা পড়ার পর এখন কি সূরা পড়বো- এ চিন্তায় যদি ৩ তসবীহ পরিমাণ সময় চলে যায়, তাহলে সিজদায়ে সাহু করতে হবে। 
  3. অথবা কোনো সূরার কোনো আয়াত ভুলে গেছেন ঐ আয়াত স্মরণ করার জন্য যদি ৩ তাসবীহ পরিমাণ সময় চলে যায় তাহলে সিজদায়ে সাহু করতে হবে।
  4.  ফরয ও সুন্নত নামাযের ১ম বৈঠকে যদি ভুলে দুইবার আত্তাহিয়্যাতু পড়ে ফেলেন তাহলে সিজদায়ে সাহু করতে হবে। 
  5.  আবার ফরয ও সুন্নত নামাযের ১ম বৈঠকে আত্তাহিয়্যাতু পড়ার পর যদি দুরুদ শরীফের ‘আল্লাহুম্মা সাল্লি আলা মুহাম্মাদ’ পর্যন্ত পড়ে ফেলেন, তাহলে শেষ বৈঠকে সিজদায়ে সাহু করতে হবে। অবশ্য তারচেয়ে কম পড়লে সিজদায়ে সাহু করতে হবে না। তবে নফল নামাযের যে কোনো বৈঠকে দুইবার আত্তাহিয়্যাতু পড়ে ফেললে সিজদায়ে সাহু দিতে হবে না।
  6. যে কোনো বৈঠকে আত্তাহিয়্যাতু পড়ার সময় যদি ভুলে সূরা ফাতেহা পড়ে ফেলেন তাহলে সিজদায়ে সাহু করতে হবে। তবে নিয়ত করার সময় সানার পরিবর্তে ভুলে দুআয়ে কুনুত পড়ে ফেললে সিজদায়ে সাহু করতে হবে না। 
  7.  ৩/৪ রাকাত বিশিষ্ট নামাযে প্রথম বৈঠক ভুলে গেছেন এবং ৩য় রাকাতের জন্য দাঁড়িয়ে গেছেন, যদি অর্ধেকের কম দাঁড়িয়ে থাকেন তাহলে বসে পড়বেন এবং আত্তাহিয়্যাতু পড়ে ৩য় রাকাতের জন্য দাঁড়াবেন। এ অবস্থায় সিজদায়ে সাহু করতে হবে না। আর যদি অর্ধেকের বেশি দাঁড়িয়ে যান তাহলে আর বসবেন না। ৩/৪ রাকাত নামায শেষ করে শেষ বৈঠকে সিজদায়ে সাহু দিবেন।
  8. যোহর ও এশার ৪র্থ রাকাতে বসতে মনে নেই। একেবারে সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে ৫ম রাকাতের জন্য দাঁড়িয়ে গেছেন। এক্ষেত্রে মনে হবার সাথে সাথে বসে পড়তে হবে। আত্তাহিয়্যাতু ও দুরুদ শরীফ পড়ে সালাম ফিরাবেন। এক্ষেত্রে সিজদায়ে সাহু করতে হবে না। 
  9. এমনকি যদি ৫ম রাকাতে সূরা ফাতেহা পড়ে ফেলেন এবং রুকুও করে ফেলেন তবুও বসে পড়বেন। এ অবস্থায় সিজদায়ে সাহু করতে হবে। আর যদি রুকু করার পরও মনে না হয়, তাহলে আরো দুই রাকাত পড়ে মোট ছয় রাকাত পড়বেন। এক্ষেত্রে শেষ দুই রাকাত নফল ও প্রথম চার রাকাত ফরয হিসাবে আদায় হলো
  10.  ★কিন্তু আসরের নামাযে ৪র্থ রাকাতে এ রকম ভুল হলে মোট ৬ রাকাতই পড়বেন, কিন্তু পুরো ৬ রাকাতই নফল হিসেবে গণ্য হবে। কারণ আসর নামাযের পর কোনো নফল নামায নেই। এক্ষেত্রে আপনাকে পুনরায় আসরের নামায পড়তে হবে।
              সন্দেহ হওয়ার ক্ষেত্রেঃ
  1. নামাজ পড়ার সময় রাকাতসংখ্যা নিয়ে সন্দেহ হলে এবং এই সন্দেহ প্রথমবারের মতো হলে ওই নামাজ বাতিল হয়ে যাবে। নামাজ আবার পড়া আবশ্যক। (ইবনে আবি শায়বা : ২/২৮)
  2. নামাজের সালাম ফেরানোর পর যদি রাকাত সংখ্যা নিয়ে সন্দেহ হয়, তাহলে তার নামাজ বাতিল হয়ে যাবে। ওই নামাজ আবার পড়তে হবে। (ইবনে আবি শায়বা : ২/২৮)
  3. কারো যদি নামাজের পর দৃঢ় বিশ্বাস হয় যে, কিছু রাকাত পড়া হয়নি, সে যদি নামাজপরিপন্থী কোনো কাজ না করে থাকে, তাহলে ছুটে যাওয়া রাকাত পড়ে দেবে। যদি নামাজপরিপন্থী কোনো কাজ করে ফেলে, তাহলে ওই নামাজ আবার পড়বে। (ইবনে আবি  শায়বা : ২/২৪) অর্থাৎ যদি স্পষ্টভাবে মনে পড়ে যে, নামায ৩ রাকাতই পড়েছেন এবং আপনি এখনও কিবলামুখি হয়ে বসে আছেন এবং কারো সাথে কথাও বলেন নি তাহলে সাথে সাথে দাঁড়িয়ে আরেক রাকাত পড়ে সিজদায়ে সাহু করে সালাম ফেরাবেন। নামায হয়ে যাবে। তবে বেশি দেরী হয়ে গেলে বা কারো সাথে কথা বলে ফেললে অথবা এমন কোন কাজ করে ফেললে – যা কোন ব্যক্তি দেখলে মনে করবে যে আপনি নামাযে নেই, তাহলে নামায পুনরায় পড়তে হবে।
  4. যে ব্যক্তির প্রায় সময় সন্দেহ হয় এবং সন্দেহ তার অভ্যাসে পরিণত হয়, ওই ব্যক্তি যেদিকে তার মন বেশি যায় (প্রবল ধারণা হয়), সেটার ওপর আমল করবে। যদি সব বিষয়ে ধারণা সমান হয়, তাহলে অপেক্ষাকৃত কম সংখ্যার ওপর আমল করবে এবং প্রত্যেক রাকাতকে নামাজের শেষ মনে করে বসবে, শেষে সিজদায়ে সাহু করবে। (মুসলিম, হাদিস : ৮৮৮)
  5. তিন রাকাত পড়া হয়েছে, নাকি চার রাকাত—সে বিষয়ে সন্দেহ হলে তিন রাকাত মনে করে বসবে। এরপর চতুর্থ রাকাত পড়বে। শেষে সিজদায়ে সাহু করবে। (মুসনাদে আহমাদ, হাদিস : ১৬৭৭)
  6. আবার ১ম রাকাত পড়লেন না ২য় রাকাত পড়লেন এ রকম সন্দেহ যদি সব সময় হয়ে থাকে তাহলে এ সন্দেহেরও কোনো ভিত্তি নেই। আর যদি হঠাৎ করে এ সন্দেহ হয় তাহলে এ রাকাতকে ১ম রাকাত ধরে আত্তাহিয়্যাতু পড়বেন। কারণ এটা ২য় রাকাতও হতে পারে। আবার ২য় রাকাতেও আত্তাহিয়্যাতু পড়বেন। কারণ এটা ২য় রাকাত হতে পারে। আবার ৩য় রাকাতেও আত্তাহিয়্যাতু পড়বেন। কারণ এটা ৪র্থ রাকাত হতে পারে। তারপর ৪র্থ রাকাতে সিজদায়ে সাহু করে সালাম ফেরাবেন। 
               বিবিধঃ
  1. বিতর নামাযে দুআয়ে কুনুত না পড়েই রুকুতে চলে গেলে বা দুআয়ে কুনুতের পরিবর্তে অন্য কিছু পড়ে ফেললে সিজদায়ে সাহু করতে হবে।
  2. আর যদি দুআয়ে কুনুতের পরিবর্তে অন্য কিছু পড়ে ফেলেন কিন্তু মনে হওয়ার সাথে সাথে আবার দুআয়ে কুনুত পড়েছেন তাহলে সিজদায়ে সাহু করতে হবে না।
  3.  আপনি যদি জামাতে নামায পড়েন তাহলে ইমাম সাহেব যদি সাহু সিজদা দেয় তাহলে আপনি দিবেন। আর যদি আপনি জামাতে মাসবুক তথা ইমাম সাহেব এক বা একাধিক রাকাত পড়ে ফেলার পর জামাতে এসে যুক্ত হন এবং তখন আপনার নিজের পড়া রাকাতে কোনো ওয়াজিব ছুটে যায় তাহলে আপনাকে সিজদায়ে সাহু করতে হবে। 
 বি.দ্র. একই নামাযে সিজদায়ে সাহু করার একাধিক কারণ ঘটলেও একটি সিজদায়ে সাহু করলেই হবে।


 রাব্বুল আলামিন আমাদেরকে পূর্ণ মনোযোগী হয়ে নামায আদায় করার তাওফিক দান করুন। আমীন।




    Post a Comment

    Previous Post Next Post

    কোনো কিছু জিজ্ঞাসা করতে চান?


    সুপ্রিয় বন্ধুরা! আপনারা কোনো কিছু জানতে চাইলে, পোষ্টের কমেন্ট বক্সে জিজ্ঞাসা করতে পারবেন। আর আমাদের সাইটের কোনো লিংকে ক্লিক করার পর অন্য সাইটে চলে গেলে ভয় পাবেন না। তা কেটে দিয়ে অথবা মোবাইলের ব্যাক বাটনে ক্লিক করে আবার ঐ লিংকে ক্লিক করুন কাঙ্ক্ষিত তথ্য পাবেন। -------ধন্যবাদ��