বাংলাদেশে মার্চ মাসের ০৮ তারিখে প্রথম করোনাভাইরাস আক্রান্ত ব্যক্তি শনাক্ত হবার পর ১৬ই মার্চ সরকার ঘোষণা করে যে, ১৭ই মার্চ থেকে ৩১ মার্চ পর্যন্ত স্কুল, কলেজসহ সব ধরণের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সহ সকল কোচিং সেন্টার বন্ধ থাকবে। এরপর দফায় দফায় সাধারণ ছুটির মেয়াদ বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছুটির মেয়াদ বাড়ানো হয়।সর্বশেষ করোনাভাইরাস পরিস্থিতি আগামী ৫ই মে পর্যন্ত সাধারণ ছুটি বৃদ্ধি করেছে সরকার।

কিন্তু সোমবার (২৭-০৪-২০২০) গণভবন থেকে রাজশাহী বিভাগের আট জেলার মাঠ প্রশাসনের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে মতবিনিময়কালে 'বাংলাদেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণের পরিস্থিতি উন্নতি না হলে আগামী সেপ্টেম্বর পর্যন্ত স্কুল ও কলেজ বন্ধ থাকবে বলে বলেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাপ্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘আমরা এখন স্কুল–কলেজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলব না। অন্তত সেপ্টেম্বর পর্যন্ত স্কুল–কলেজ সবই বন্ধ থাকবে, যদি করোনাভাইরাস অব্যাহত থাকে। যখন এটা থাকবে না, তখনই খুলব। 

আপডেট খবরঃ
গত ২৩ জুন ২০২০ (মঙ্গলবার) জাতীয় সংসদে প্রস্তাবিত ২০২০-২০২১ অর্থবছরের বাজেটের উপর সাধারন আলোচনা করার এক পর্যায়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন করোনাভাইরাসের কারনে স্থগিত থাকা এইচএসসি পরীক্ষা ২০২০ উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি হলেই নেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন সরকারের সব প্রস্তুতি থাকার পরও করোনা পরিস্থিতির কারনে পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

গত ১৫ জুন ২০২০ (সোমবার), করোনা পরিস্থিতি উন্নতি না হওয়ায় বাংলাদেশ সরকার আবারও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছুটি আগামী ০৬ আগস্ট, ২০২০ পর্যন্ত বৃদ্ধি করেছে। কলেজসহ সব ধরণের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং সকল কোচিং সেন্টার বন্ধ থাকবে। তাই ২০২০ সালের এইসএসসি পরীক্ষা আবারও অনিশ্চয়তায় পড়লো। কারন করোনা পরিস্থিতি উন্নতি না হলে এইচএসসি পরীক্ষা হওয়ার সম্ভাবনা খুভই কম এবং তা ঝুকিপূর্ণও। নিম্নে বিস্তারিত দেখুন--

রোববার (৩১ মে, ২০২০) এসএসসির ফল প্রকাশ নিয়ে অনলাইন ব্রিফিংয়ে শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি বলেন, পরিস্থিতি অনুকূল না হলে এইচএসসি পরীক্ষা নেয়া সম্ভব না। এইচএসসি পরীক্ষার জন্য সম্পূূর্ণ প্রস্তুত।তবে করোনা পরিস্থিতির কারণে বলা যাচ্ছে না কবে নাগাদ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।তিনি বলেন, নিরাপদ সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা সম্ভব না হওয়া এবং ব্যাপক স্বাস্থ্য ঝুঁকি থাকায় পরিস্থিতি অনুকূল না হওয়া পর্যন্ত এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা নেয়া এই মুহূর্তে নেয়া সম্ভব হচ্ছে না।

----------------------------------------------------------------
এর আগে করোনা পরিস্থিতিতে শিক্ষা কার্যক্রম এগিয়ে নিতে দফায় দফায় মিটিং করছেন মন্ত্রী-সচিবসহ শিক্ষা কর্মকর্তারা। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব সব বোর্ডের চেয়ারম্যানদের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্স করেছেন। আন্তঃশিক্ষা বোর্ডের সভাপতি জিয়াউল হক বলেন, আমরা পরিস্থিতি দেখে রুটিন করবো ২৪ থেকে ২৫ এপ্রিলের দিকে, যাতে ঈদের চার থেকে পাঁচ দিন পরে পরীক্ষা নিতে পারি। তবে সব নির্ভর করছে পরিস্থিতির ওপর। কিন্তু পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়ায় পরীক্ষার নতুন সময়সূচি পরে আর প্রকাশ করা হয়নি।

তাহলে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা কবে শুরু হবে? তা কি সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পেছাতে পারে?


হ্যা, এইচএসসি পরীক্ষা সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পেছাতে পারে আবার পেছাতে নাও পারে। আজ প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার পর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করে জানা গেছে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে এইচএসসি-সমমান পরীক্ষা আগামী সেপ্টেম্বরের আগে আয়োজন করা সম্ভব হবে না। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান না খুললে পরীক্ষা আয়োজনের প্রস্তুতি শুরু করা সম্ভব নয়। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে পরবর্তী ১৫ দিন পর এ পরীক্ষা আয়োজন করা হবে।
সোমবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব মো. মাহবুব হোসেন বলেন, পরীক্ষা নিতে হলে অবশ্যই আগে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলতে হবে। কারণ, পরীক্ষার কেন্দ্রতো প্রতিষ্ঠাননির্ভর। তাই যতদিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা সম্ভব না হচ্ছে ততদিন পরীক্ষা নেয়া সম্ভব নয়। সেপ্টেম্বর মাসে প্রতিষ্ঠান খোলা সম্ভব হলে, এর পরবর্তী ১৫ দিন পর এইচএসসি-সমমান পরীক্ষা আয়োজন করা হবে। এ জন্য একাধিক কর্মপরিকল্পনা তৈরি করা হয়েছে। ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান মুহাম্মদ জিয়াউল হক জানান, পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে কোনোভাবেই এইচএসসি পরীক্ষা নেয়া সম্ভব না।

আরও পড়ুনঃ এসএসসি, দাখিল ও ভোকেশনাল পরীক্ষার ফলাফল ২০২০ যেভাবে জানবেন

তাহলে বুঝা গেল  ২০২০ সালের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা সম্পূর্ণ করোনাভাইরাস এর পরিস্থিতির উপর নির্ভর করছে। অর্থাৎ যখনই করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে তখনই অর্থাৎ পরবর্তী ১৫ দিন পরই পরীক্ষা শুরু হবে। এতে করে যদি জুন মাসে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে যায়, তাহলে জুন মাসেই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলবে এবং ২০২০ সালের এইচএসসি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।
২০২০ সালের আলিম পরীক্ষার সংশোধিত রুটিন প্রকাশিত হলে এখান থেকে দেখতে পারবেন।
২০২০ সালের এইচএসসি পরীক্ষার সংশোধিত রুটিন প্রকাশিত হলে এখান থেকে দেখতে পারবেন।


এর আগে গত বৃহস্পতিবার (০৮-০৫-২০২০ তারিখ) থেকে দেশের সব ক’টি শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের অফিসের কার্যক্রম সীমিত পরিসরে শুরু হচ্ছে। ঢাকা বোর্ড সুত্র অবশ্য জানিয়েছে, আপাতত এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার রেজাল্ট তৈরির কাজকেই অগ্রাধিকার দেয়া হচ্ছে। এরপর করোনা পরিস্থিতির উন্নতি হলে ঈদের পর এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার নতুন সময়সূচি নিয়ে বৈঠক করে তা প্রকাশ করা হবে।
এর আগে, মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল, ২০২০) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা সচিব মো. মাহবুব হোসেন দেশের সকল শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যানদের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সভা করেন। সেখানে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা শুরু করার বিষয়ে আলোচনা হয়। দ্রুত সময়ের মধ্যে পরীক্ষা শেষ করতে নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এ কারণে পরীক্ষা আয়োজনের সময়সীমা ১ মাস ১৮ দিনের বদলে ১ মাসের মধ্যে তা শেষ করতে বোর্ড চেয়ারম্যানদের নতুনভাবে রুটিন তৈরি করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠাতে বলা হয়েছে। তবে প্রতিটি পরীক্ষার জন্য নির্ধারিত তিন ঘণ্টা সময় বহাল থাকবে বলে জানা গেছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় সাব-কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মু. জিয়াউল হক বলেন, ‘করোনা পরিস্থিতির ক্ষতি পুষিয়ে নিতে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা আয়োজনের সময়সীমা কমিয়ে আনা হবে। দেড় মাসের বদলে এটি এক মাসের মধ্যে শেষ করা হতে পারে। এ বিষয়ে সচিব স্যারকে প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। তিনি এ প্রস্তাবে সম্মতি দিয়েছেন।

উল্লেখ্য যে, বাংলাদেশ আন্তঃ শিক্ষা বোর্ড সমন্বয় সাবকমিটি গত ২২ শে মার্চ, ২০২০ তারিখে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা স্থগিত ঘোষণা করে।

Post a Comment

Previous Post Next Post