বাংলাদেশে মার্চ মাসের ০৮ তারিখে প্রথম করোনাভাইরাস আক্রান্ত ব্যক্তি শনাক্ত হবার পর ১৬ই মার্চ সরকার ঘোষণা করে যে, ১৭ই মার্চ থেকে ৩১ মার্চ পর্যন্ত স্কুল, কলেজসহ সব ধরণের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সহ সকল কোচিং সেন্টার বন্ধ থাকবে। এরপর দফায় দফায় সাধারণ ছুটির মেয়াদ বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছুটির মেয়াদ বাড়ানো হয়।সর্বশেষ করোনাভাইরাস পরিস্থিতি আগামী ৫ই মে পর্যন্ত সাধারণ ছুটি বৃদ্ধি করেছে সরকার।

কিন্তু সোমবার (২৭-০৪-২০২০) গণভবন থেকে রাজশাহী বিভাগের আট জেলার মাঠ প্রশাসনের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে মতবিনিময়কালে 'বাংলাদেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণের পরিস্থিতি উন্নতি না হলে আগামী সেপ্টেম্বর পর্যন্ত স্কুল ও কলেজ বন্ধ থাকবে বলে বলেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাপ্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘আমরা এখন স্কুল–কলেজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলব না। অন্তত সেপ্টেম্বর পর্যন্ত স্কুল–কলেজ সবই বন্ধ থাকবে, যদি করোনাভাইরাস অব্যাহত থাকে। যখন এটা থাকবে না, তখনই খুলব।


এইচএসসি পরীক্ষার সর্বশেষ আপডেট (খবর) ২০২০

-


১৭ সেপ্টেম্বর ২০২০ (বৃহস্পতিবার)আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় সাব কমিটি সূত্রে জানা গেছে যে, কভিড-১৯ মহামারির কারণে স্থগিত হয়ে যাওয়া ২০২০ সালের এইচএসসি পরীক্ষা নেয়ার বিষয়ে ১১টি শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানগণ আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর বৈঠকে বসবেন। ঐদিন দুপুর ২টায় ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিতব্য বৈঠকে এইচএসসি পরীক্ষা ২০২০ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত আসতে পারে।

রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোকবুল হোসেন বলেন, এইচএসসি পরীক্ষা, একাদশের ভর্তি ও ক্লাস শুরুর বিষয়ে ২৪ সেপ্টেম্বর বোর্ড চেয়ারম্যানরা বৈঠকে বসবেন। সেখানে এসব বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কিছু প্রস্তাব তৈরি করা হবে। সেগুলো শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত মন্ত্রণালয়ই নেবে।

তিনি জানান, করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার পর অন্তত ১৫ দিন সময় দিয়ে এইচএসসি পরীক্ষার নতুন সময়সূচি ঘোষণা করা হবে। এ কারণে পরীক্ষার্থী, শিক্ষক সবাই পর্যাপ্ত প্রস্তুতি নেওয়ার সময় পাবেন। তিনি বলেন, এটা নিশ্চিত যে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা না পর্যন্ত এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার নতুন সূচি ঘোষণা করা হচ্ছে না।


০৯ সেপ্টেম্বর ২০২০ (বুধবার) : ২০২০ সালের এইচএসসি পরীক্ষা হবে, তবে কবে হবে তা নিশ্চিত নয়। ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান ও আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় সাব কমিটির সভাপতি অধ্যাপক মু. জিয়াউল হক জানান, "এইচএসসি পরীক্ষা হবে সেটা নিশ্চিত। তবে কবে হবে তা এখনো ঠিক হয়নি। সবকিছু যখন স্বাভাবিক হবে তার ১৫ দিন পর এইচএসসি পরীক্ষা হবে। এখন পর্যন্ত এটাই সিদ্ধান্ত। এদিকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কবে খুলবে সে ব্যাপারেও কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। যদিও ০৩ অক্টোবর পর্যন্ত সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ। 

এছাড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্বাভাবিকভাবে না খুলে আলাদাভাবে বিশেষ ব্যবস্থাপনায় এইচএসসি পরীক্ষা নেয়ার কোনো পরিকল্পনা আপাতত শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের নেই। তাই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার ওপরই নির্ভর করছে এইচএসসি পরীক্ষা কবে হবে। আর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে, সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার ১৫ দিন পর পরীক্ষা হবে- এমন সিদ্ধান্ত নিয়ে রেখেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। তবে এবার পিইসি ও জেএসসি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে না, তা নিশ্চিত।


৩০ আগস্ট ২০২০ (রোববার) : ৩০ আগস্ট রোজ রবিবার ডিবিসি নিউজের এক প্রতিবেদনে বলা হয় যে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান না খুললেও পরিস্থিতি সাপেক্ষ্যে নভেম্বরে এইচএসসি পরীক্ষা নেয়ার কথা ভাবা হচ্ছে। অর্থাৎ করোনা পরিস্থিতি উন্নতি হলে স্বাস্থ্যবিধি মেনে নভেম্বরে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা নেয়া যেতে পারে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কাছে এমন সুপারিশ করেছে করোনা মোকাবিলায় গঠিত জাতীয় টেকনিক্যাল পরামর্শক কমিটি। একথা নিশ্চিত করেছে কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ। তিনি বলেন, পরীক্ষা যে নভেম্বরে হবে এমন বলা হচ্ছে না। যদি নভেম্বরে স্বাস্থ্যবিধির যে চ্যালেঞ্জগুলো আছে, সেগুলো নিশ্চিত করা যায়। তবে শিক্ষা মন্ত্রণালয় যে তারিখটা দিবে সেটা নভেম্বরে হতে পারে অর্থাৎ এইচএসসি পরীক্ষা নেয়া হবে।


২৭ আগস্ট ২০২০ (বৃহস্পতিবার) : করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে এইচএসসি পরীক্ষা এবং মাধ্যমিক পর্যায়ের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পরবর্তী ক্লাসে উত্তীর্ণের বিকল্প মূল্যায়ন পদ্ধতি কি হতে পারে, সে বিষয়ে একটি প্রস্তাবনা তৈরি করার নির্দেশ দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। মন্ত্রনালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবুল খায়ের এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন। জানা গেছে, উক্ত প্রস্তাবনাটি পরবর্তী সভায় উপস্থাপনের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

এছাড়া উক্ত সভায় করোনা ভাইরাসের কারনে কওমি মাদরাসা ছাড়া দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছুটি ৩ অক্টোবর পর্যন্ত বৃদ্ধি এবং ২০২০ সালের জেডিসি-জেএসসি পরীক্ষাও অনুষ্ঠিত হবে না বলে সিদ্ধান্ত হয়। অন্যদিকে ২০২০ সালের এইচএসসি পরীক্ষা হবে কি না, সে বিষয়ে এখনও কোনো সিদ্ধান্ত না হলেও মাননিয় প্রধানমন্ত্রী আজ সকালে এক ভিডিও কনফারেন্সে বলেছেন যে "ফাইনাল পরীক্ষা তো আর হবে না তবে প্রমোশন তো দিতে হবে"। তাই সবমিলিয়ে বলা যায় যে করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে এইচএসসি পরিক্ষার বিকল্প পদ্ধতি বের করবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। হতে পারে অটোপাশ বা অন্যকোনো বিকল্প পদ্ধতি, যা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরবর্তী সভায় জানা যাবে। দেখা যাক কি হয়? এডু মাসাইল (Edu Masail) এর সাথে থাকুন।

২০ আগষ্ট ২০২০ (বৃহস্পতিবার) শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি আজ বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সন্ধ্যায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে এক আলোচনা সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, "অনুকূল পরিবেশ হলেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার কথা চিন্তা করবে সরকার এবং ১৫ দিনের মধ্যে এইচএসসি পরীক্ষা নেওয়া হবে। পরীক্ষার্থীদের প্রস্তুতি নেয়ার জন্য ১৫ দিন সময় দিয়ে পরীক্ষার সময়সূচি প্রকাশ করা হবে"।

উল্লেখ্য, গত ১৭ আগষ্ট, ২০২০ তারিখে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব মো. মাহবুব হোসেন বলেন, করোনাভাইরাসের কারণে বন্ধ থাকা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কবে খুলবে, সেই সিদ্ধান্ত ২৫ আগস্টের পর জানানো হবে। গত সোমবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মাহবুব হোসেন আরও বলেন, এসব বিষয়ে যখনই সিদ্ধান্ত হবে তা সবাইকে জানিয়ে দেওয়া হবে।


১১ আগষ্ট ২০২০ (মঙ্গলবার) সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে যে, পরীক্ষা কেন্দ্রে স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করে সেপ্টেম্বর মাসের শেষ দিকে অথবা অক্টোবর মাসের শুরুতে শুরু হতে পারে ২০২০ সালের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা। ইতোমধ্যে একটি রোডম্যাপ তৈরি করে বিভিন্ন প্রস্তুতি শুরু করেছে শিক্ষা বোর্ডগুলো। করোনা পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলে পরীক্ষা শুরু হবে। 



আর তাই করোনাকালীন সময়ে পরীক্ষার্থী যাতে নিরাপদে পরীক্ষা দিতে পারে, সে লক্ষ্যে একজন পরীক্ষার্থী এক বেঞ্চে বসবে এবং পরীক্ষা কেন্দ্র গুলোর গেটের সামনে রাখা হবে হ্যান্ড স্যানিটাইজার। করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার ১৫ দিন পর শুরু হতে পারে এইচএসসি পরীক্ষা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের এক কর্মকর্তা বলেন, বর্তমানে সবকিছু সচল হচ্ছে। আগামী সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে অথবা অক্টোবরের শুরুতে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা আয়োজনের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে নতুনভাবে প্রস্তুতি শুরু করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করতে পরীক্ষা কেন্দ্রের সংখ্যা বাড়ানো হবে। এজন্য শিক্ষা বোর্ডের নির্ধারিত কেন্দ্রের বাইরে পার্শ্ববর্তী ভালো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের তালিকা চাওয়া হয়েছে। নতুনভাবে কেন্দ্র বাড়িয়ে সেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পরীক্ষার আয়োজন করা হবে।


আরও পড়ুনঃ

২০ জুলাই ২০২০ (মঙ্গলবার):  করোনাভাইরাস পরিস্থিতির মধ্যে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা নিয়ে এখনো অনিশ্চিত শিক্ষা প্রশাসন। এখন পর্যন্ত এইচএসসি বা সমমানের পরীক্ষা নিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানিয়েছে ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড।এদিকে পরীক্ষা নেয়ার সব সব প্রস্তুতি ইতোমধ্যেই শেষ করে ফেলা হলেও সব গুছিয়ে ফেলা হচ্ছে। গত মার্চেই কেন্দ্রগুলোতে পরীক্ষা পরিচালনার প্রয়োজনীয় উপকরণ পাঠিয়ে দিয়েছিল শিক্ষা বোর্ডগুলোর।

তবে, পরীক্ষা নিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত এখনও হয়নি। সবকিছু গুছিয়ে রাখতে বলা হচ্ছে কেন্দ্রগুলোকে। বন্যা বৃষ্টি বা বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগে যাতে এসব উপকরণ ক্ষতিগ্রস্থ না হয় সে ব্যাপারে নজর রাখতে কেন্দ্রগুলোকে বলছে শিক্ষা বোর্ডগুলো। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা বলেন, স্কুল কলেজ খোলার আগে এইচএসসি পরীক্ষা নেয়ার কোনো পরিকল্পনাই মন্ত্রণালয়ের নেই। তবে, স্কুল কলেজ খোলার পর এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার সংশোধিত সূচি প্রকাশ করা হবে। সূচি প্রকাশের দুই থেকে তিন সপ্তাহ পর পরীক্ষা নেয়া হতে পারে।

২৩ জুন ২০২০ (মঙ্গলবার):  জাতীয় সংসদে প্রস্তাবিত ২০২০-২০২১ অর্থবছরের বাজেটের উপর সাধারন আলোচনা করার এক পর্যায়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন করোনাভাইরাসের কারনে স্থগিত থাকা এইচএসসি পরীক্ষা ২০২০ উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি হলেই নেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন সরকারের সব প্রস্তুতি থাকার পরও করোনা পরিস্থিতির কারনে পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।


২০২০ সালের আলিম পরীক্ষার সংশোধিত রুটিন প্রকাশিত হলে এখান থেকে দেখতে পারবেন।
২০২০ সালের এইচএসসি পরীক্ষার সংশোধিত রুটিন প্রকাশিত হলে এখান থেকে দেখতে পারবেন।

১৫ জুন ২০২০ (সোমবার):  করোনা পরিস্থিতি উন্নতি না হওয়ায় বাংলাদেশ সরকার আবারও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছুটি আগামী ০৬ আগস্ট, ২০২০ পর্যন্ত বৃদ্ধি করেছে। কলেজসহ সব ধরণের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং সকল কোচিং সেন্টার বন্ধ থাকবে। তাই ২০২০ সালের এইসএসসি পরীক্ষা আবারও অনিশ্চয়তায় পড়লো। কারন করোনা পরিস্থিতি উন্নতি না হলে এইচএসসি পরীক্ষা হওয়ার সম্ভাবনা খুভই কম এবং তা ঝুকিপূর্ণও। নিম্নে বিস্তারিত দেখুন--

৩১ মে ২০২০ (রবিবার): এসএসসির ফল প্রকাশ নিয়ে অনলাইন ব্রিফিংয়ে শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি বলেন পরিস্থিতি অনুকূল না হলে এইচএসসি পরীক্ষা নেয়া সম্ভব না। এইচএসসি পরীক্ষার জন্য সম্পূূর্ণ প্রস্তুত।তবে করোনা পরিস্থিতির কারণে বলা যাচ্ছে না কবে নাগাদ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।তিনি বলেন, নিরাপদ সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা সম্ভব না হওয়া এবং ব্যাপক স্বাস্থ্য ঝুঁকি থাকায় পরিস্থিতি অনুকূল না হওয়া পর্যন্ত এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা নেয়া এই মুহূর্তে নেয়া সম্ভব হচ্ছে না।

----------------------------------------------------------------
এর আগে করোনা পরিস্থিতিতে শিক্ষা কার্যক্রম এগিয়ে নিতে দফায় দফায় মিটিং করছেন মন্ত্রী-সচিবসহ শিক্ষা কর্মকর্তারা। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব সব বোর্ডের চেয়ারম্যানদের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্স করেছেন। আন্তঃশিক্ষা বোর্ডের সভাপতি জিয়াউল হক বলেন, আমরা পরিস্থিতি দেখে রুটিন করবো ২৪ থেকে ২৫ এপ্রিলের দিকে, যাতে ঈদের চার থেকে পাঁচ দিন পরে পরীক্ষা নিতে পারি। তবে সব নির্ভর করছে পরিস্থিতির ওপর। কিন্তু পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়ায় পরীক্ষার নতুন সময়সূচি পরে আর প্রকাশ করা হয়নি।

তাহলে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা কবে শুরু হবে? তা কি সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পেছাতে পারে?


হ্যা, এইচএসসি পরীক্ষা সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পেছাতে পারে আবার পেছাতে নাও পারে। আজ প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার পর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করে জানা গেছে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে এইচএসসি-সমমান পরীক্ষা আগামী সেপ্টেম্বরের আগে আয়োজন করা সম্ভব হবে না। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান না খুললে পরীক্ষা আয়োজনের প্রস্তুতি শুরু করা সম্ভব নয়। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে পরবর্তী ১৫ দিন পর এ পরীক্ষা আয়োজন করা হবে।
সোমবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব মো. মাহবুব হোসেন বলেন, পরীক্ষা নিতে হলে অবশ্যই আগে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলতে হবে। কারণ, পরীক্ষার কেন্দ্রতো প্রতিষ্ঠাননির্ভর। তাই যতদিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা সম্ভব না হচ্ছে ততদিন পরীক্ষা নেয়া সম্ভব নয়। সেপ্টেম্বর মাসে প্রতিষ্ঠান খোলা সম্ভব হলে, এর পরবর্তী ১৫ দিন পর এইচএসসি-সমমান পরীক্ষা আয়োজন করা হবে। এ জন্য একাধিক কর্মপরিকল্পনা তৈরি করা হয়েছে। ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান মুহাম্মদ জিয়াউল হক জানান, পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে কোনোভাবেই এইচএসসি পরীক্ষা নেয়া সম্ভব না।

আরও পড়ুনঃ এসএসসি, দাখিল ও ভোকেশনাল পরীক্ষার ফলাফল ২০২০ যেভাবে জানবেন

তাহলে বুঝা গেল  ২০২০ সালের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা সম্পূর্ণ করোনাভাইরাস এর পরিস্থিতির উপর নির্ভর করছে। অর্থাৎ যখনই করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে তখনই অর্থাৎ পরবর্তী ১৫ দিন পরই পরীক্ষা শুরু হবে। এতে করে যদি জুন মাসে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে যায়, তাহলে জুন মাসেই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলবে এবং ২০২০ সালের এইচএসসি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার (০৮-০৫-২০২০ তারিখ) থেকে দেশের সব ক’টি শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের অফিসের কার্যক্রম সীমিত পরিসরে শুরু হচ্ছে। ঢাকা বোর্ড সুত্র অবশ্য জানিয়েছে, আপাতত এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার রেজাল্ট তৈরির কাজকেই অগ্রাধিকার দেয়া হচ্ছে। এরপর করোনা পরিস্থিতির উন্নতি হলে ঈদের পর এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার নতুন সময়সূচি নিয়ে বৈঠক করে তা প্রকাশ করা হবে।
এর আগে, মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল, ২০২০) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা সচিব মো. মাহবুব হোসেন দেশের সকল শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যানদের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সভা করেন। সেখানে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা শুরু করার বিষয়ে আলোচনা হয়। দ্রুত সময়ের মধ্যে পরীক্ষা শেষ করতে নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এ কারণে পরীক্ষা আয়োজনের সময়সীমা ১ মাস ১৮ দিনের বদলে ১ মাসের মধ্যে তা শেষ করতে বোর্ড চেয়ারম্যানদের নতুনভাবে রুটিন তৈরি করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠাতে বলা হয়েছে। তবে প্রতিটি পরীক্ষার জন্য নির্ধারিত তিন ঘণ্টা সময় বহাল থাকবে বলে জানা গেছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় সাব-কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মু. জিয়াউল হক বলেন, ‘করোনা পরিস্থিতির ক্ষতি পুষিয়ে নিতে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা আয়োজনের সময়সীমা কমিয়ে আনা হবে। দেড় মাসের বদলে এটি এক মাসের মধ্যে শেষ করা হতে পারে। এ বিষয়ে সচিব স্যারকে প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। তিনি এ প্রস্তাবে সম্মতি দিয়েছেন।

উল্লেখ্য যে, বাংলাদেশ আন্তঃ শিক্ষা বোর্ড সমন্বয় সাবকমিটি গত ২২ শে মার্চ, ২০২০ তারিখে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা স্থগিত ঘোষণা করে।

Post a Comment

Previous Post Next Post

কোনো কিছু জিজ্ঞাসা করতে চান?


সুপ্রিয় বন্ধুরা! আপনারা কোনো কিছু জানতে চাইলে, পোষ্টের কমেন্ট বক্সে জিজ্ঞাসা করতে পারবেন। আর আমাদের সাইটের কোনো লিংকে ক্লিক করার পর অন্য সাইটে চলে গেলে ভয় পাবেন না। তা কেটে দিয়ে অথবা মোবাইলের ব্যাক বাটনে ক্লিক করে আবার ঐ লিংকে ক্লিক করুন কাঙ্ক্ষিত তথ্য পাবেন। -------ধন্যবাদ��